সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শহরের ব্যস্ততম হবিগঞ্জ রোডের ভূমি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিতভাবে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র দেখার অজুহাতে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামান। অনেক চালকের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক সিএনজি ও অটোরিকশা চালক অভিযোগ করে বলেন, “সব কাগজ ঠিক থাকলেও অযথা আটকে রাখা হয়। পরে টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট রুয়েলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে গাড়ি আটক করলেও তার এক সহকর্মীর মাধ্যমে চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুয়েল বলেন, “নিউজ করলে কিছু যায় আসে না। যান, পারলে নিউজ করেন।”—এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মামুন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।