বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ‘নো ফুয়েল কার্ড, নো অয়েল’ নীতি কার্যকর হওয়ার পর জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমেছে ভিড় ও দীর্ঘ লাইন, এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
এর আগে লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের ভিড়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বিশৃঙ্খলা ছিল নিত্যদিনের চিত্র। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ফুয়েল কার্ড প্রদান করছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও চালকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলা সদরের দুটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টা থেকে তেল বিক্রি শুরু হলেও আগের মতো ভোর থেকে দীর্ঘ সারি নেই। পাম্প এলাকায় অযাচিত ভিড়ও কমেছে। ফলে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় কমে এসেছে।
ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে লাইনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষকে দ্রুত কার্ড করার পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও পাম্প এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন।
তেল নিতে আসা আহসান হাবীব ও রুহুল আমিন জানান, আগে একজন ব্যক্তি একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারতেন। এখন ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে ব্যক্তিগত মজুদ বন্ধ হয়েছে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সহজে তেল পাচ্ছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে লাইনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যাদের এখনো কার্ড হয়নি, তাদের দ্রুত কার্ড করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পাম্পগুলোতে ভিড় কমেছে এবং দীর্ঘ লাইন আর দেখা যাচ্ছে না।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আমরা জ্বালানি বিতরণে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আগে যেখানে অপ্রয়োজনীয় ভিড়, অনিয়ম ও একাধিকবার তেল নেওয়ার প্রবণতা ছিল, এখন তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা চাই, প্রকৃত ব্যবহারকারীরা যেন নির্ধারিত নিয়মে সহজে জ্বালানি পেতে পারেন এবং কেউ অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারেন।”
তবে ফুয়েল কার্ড না থাকায় অনেক চালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে শৃঙ্খলা ফিরলেও এটি নতুন ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা বা জটলা নেই। নিয়ম মেনে প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আফতাব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাসুম বলেন, “আগে তেল বিতরণে নানা সমস্যা তৈরি হতো। এখন ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির বোরহান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।
তবে সাধারণ চালকদের দাবি, শুধু নিয়ম আরোপ করলেই হবে না; সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং লাইনের চাপ কমাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শৃঙ্খলা ফিরলেও ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হবে না।
অন্যদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকরা চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার সব যানবাহন মালিককে ফুয়েল কার্ডের আওতায় আনা না পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এদিকে পার্বতীপুর অয়েল ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
জামান মৃধা-০১৭৩০-৯৮৩৮৯৭
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।