শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা।
দেবহাটার পাইকপাড়া জগন্নাথপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জোর পূর্বক মন্দিরসহ জমি দখল করার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করার পর প্রতিপক্ষতরা মন্দিরের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এঘটনায় ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজি: আদালতে পি-২০৯/২৫ নম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতে দাখিলকৃত মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, দেবহাটার পাইকপাড়া জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত সুধীর রায়ের পুত্র তপন কুমার রায়(৬০) এর বসত বাড়ি ও মাছের ঘেরসহ তাদের পাইকপাড়া রাধাকৃষ্ণ কালীমাতা মন্দিরের জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার পুত্র জামাল ফারুক (৪৫) ও মাহামুদুল হাসান (৪৮),তোহা ও নজরুল ইসলাম, রজব আলী হাওলাদার এর পুত্র মোহিত হাওলাদার, সাবু গাজীর পুত্র শাহাবুদ্দিন গাজী ও আলাউদ্দিন গাজী ও রহিম সানার পুত্র আশরাফুল সানাসহ আরও অজ্ঞাত আরও ২০/৩০ জন ২৫মার্চ প্রকাশ্য দিবালোকে সম্পুর্ন বেআইনি ভাবে অনধিকার প্রবেশ করে জোরপূর্বক মন্দিরের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে জবরদখল করার চেষ্টা করে। এসময় তপন কুমার রায় দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানান ধরনের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। উক্ত মন্দিরের জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ইতোপূর্বে দেওয়ানী আদালতে মামলা করেও সুরাহা না হওয়ায় গত ৩ মার্চ বিবাদীরা জোর পূর্বক দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত মন্দিরসহ বাড়িঘর ও মাছের ঘের জবরদখল করার পায়তারা করতে থাকে।সে ঘটনায় তপন কুমার রায় বাদী হয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিঃ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় পিটিশন ৩৩৩ /২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি দেবহাটাকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং দেবহাটা সহকারী কমিশনার ভূমি দেবহাটাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দেন।আদালতের আদেশ মোতাবেক পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করলে প্রতিপক্ষ জামাল ফারুক ও মাহামুদুল হাসান আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মন্দিরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল বলে স্হানীয় বিধান,ইরুলাল রায়,প্রভাষ রায়, তপন রায়সহ এলাকাবাসী জানিয়েছেন।এছাড়া মন্দিরের পুজারী ফুলমতি রায় জানান-আমি দীর্ঘ দিন ধরে মন্দিরের দেখাশুনা করি।রাতে মন্দিরেই থাকি।গত বুধবার রাত আনুমানিক ১টার সময় মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। আমরা জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এঘটনায় সংখ্যালঘু ওই পল্লীর বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।