বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান। সভায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) ঠাকুর দাস রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) মামুনুর রশিদ, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাশেম সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি নুর মোবাশ্বের হোসেন, সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহবুব খান, বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হবে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভাষা শহীদদের স্মরণে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে সভায় জানানো হয়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, আলোকসজ্জা এবং সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগকারী ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।