পরিবর্তন সংবাদদাতাঃ
চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় জোট যদি ক্ষমতায় যায়, তবে সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।একজন সাধারণ কৃষক বা মেহনতি মানুষ অন্যায় করলে যে শাস্তি পাবে, একজন রাষ্ট্রপতি একই অন্যায় করলে তাকেও একই শাস্তি পেতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, আমরা বেকারদের সম্মান দিতে চাই। চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চুরি, চামারি, টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের কারণে বন্ধ হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করা গেলে এমনিতেই কারখানাগুলো চালু হয়ে যাবে এবং সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশ উৎপাদনে এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই আমরা এই দেশকে সমৃদ্ধ করব।‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, হ্যাঁ ভোট মানে বাংলাদেশ, না ভোট মানে আধিপত্যবাদ। হ্যাঁ ভোট মানে আজাদী, না ভোট মানে গোলামী। দুভাবেই দিয়ে দেখলাম, জনগণ সচেতন— মাশাল্লাহ। জনগণ আওয়াজ দিতে উল্টাপাল্টা করেনি। তার মানে ভোটের বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি শক্ত করে মারতে হবে হ্যাঁ ভোটের ওপর।
তিনি বলেন, হ্যাঁ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। হ্যাঁ জিতে গেলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। হ্যাঁ জিতে গেলে চাঁদাবাজির কবর রচিত হবে সারা জীবনের জন্য। আর হ্যাঁ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, হ্যাঁ যেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে যায়।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির বলেন, আমরা চিরতরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাই। আমরা আমাদের সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই— যেখানে থাকবে ইনসাফ, থাকবে দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হিমালয়ের বা কারোর কাছেও মাথা নত করে না— আল্লাহ ছাড়া। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করলে ইনসাফ কায়েম হবে, দেশ হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।
শফিকুর রহমান বলেন, অনেক জায়গায় আমাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে এটি আসলে কাম্য নয়, যারা নিরীহ মা-বোনদের কাছে হামলা করে তারা কখনো সভ্য মানুষ হতে পারে না। আমরা কোনো রক্তচক্ষু ভয় পাই না, সব বাধা উপেক্ষা করে বিজয় সন্নিকটে ইনশাআল্লাহ।চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আমির মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলামী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ জুলুম, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী ও হ্যাঁ ভোট দেওয়া। আমরা এ দেশের মানুষের পাশে থাকতে চাই , আর কারোর গোলামী দাসত্ব করতে চাই না।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা জামায়াতের আমির ও ২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন বলেন, আপনারা সব দলের শাসন দেখেছেন, কারা কেমন আপনারা ভালো জানেন। আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে, ন্যায় ইনসাফ বৈষম্যহীন দেশ গড়তে আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা কথা দিচ্ছি, কৃষি প্রধান এই জেলায় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে, হানাহানি, মারামারি, চাঁদাবাজির ঠাঁই হবে না। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বিকল্প নেই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চুয়াডাঙ্গায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। বেকারত্ব মুক্ত, দুর্নীতি-চাঁদাবাজ মুক্ত চুয়াডাঙ্গা গড়া হবে আপনাদের নিয়ে।
আরও বক্তব্য দেন- ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি (প্রস্তাবিত) সোহেল পারভেজ, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন এবং দামুড়হুদা উপজেলা বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সদস্য সচিব মনোরঞ্জন দাস।
বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও সুশাসনের বিকল্প নেই। এজন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে বিকাল ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।
আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমির ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্যরা। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ রুমঃ News.dainikparibarton@gmail.com অথবা News@dainikparibarton.com
মোবাইল: +8809696195106 অথবা +8801715-395106
All rights reserved © 2020-2025 dainikparibarton.com