বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন
খবর অনলাইনঃ
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল মিনি নিলামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে তীব্র দরকষাকষির পর শাহরুখ খানের মালিকানাধীন দলটি তাকে দলে নেয়।
আইপিএলের ইতিহাসে এটি ছিল কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।নিলামের কয়েক সপ্তাহ পরই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং কিছু উগ্রপন্থী নেতার প্রকাশ্য হুমকি-ধামকির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) মুস্তাফিজকে আইপিএলে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিসিআইয়ের এই প্রশাসনিক নির্দেশের ফলে কেকেআর বাধ্য হয়ে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়।গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো চোট, ফিটনেস সমস্যা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত জড়িত ছিল না। তিনি পুরোপুরি ফিট ছিলেন এবং আইপিএলে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। পুরো ঘটনাটি ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটের ফল, যা আইপিএলের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—দলে নেওয়ার পর বাদ পড়লেও কেন তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা যায়, আইপিএলের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সাধারণত বিমার আওতায় থাকে। তবে এই বিমা মূলত চোট বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্রিকেটীয় কারণে খেলতে না পারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। আর ভারতের কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বিসিসিআই সরাসরি অর্থ পরিশোধ করে। কিন্তু মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে এসব শর্তের কোনোটি প্রযোজ্য নয়, কারণ তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, ক্রিকেটীয় কারণে নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল কর্মকর্তা জানান, বর্তমান আইপিএল বিমা কাঠামোর আওতায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ নেই। ফলে চুক্তিগতভাবে কেকেআর বা বিসিসিআই—কেউই তাকে অর্থ দিতে বাধ্য নয়।
এই পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজের সামনে আইনি পথে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা বাস্তবে অত্যন্ত জটিল। আইপিএল ভারতের আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় একজন বিদেশি ক্রিকেটারের পক্ষে সেখানে মামলা করা দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। তাত্ত্বিকভাবে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেখান থেকেও ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক সম্পর্কও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় কেউই বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয় না।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড দামে আইপিএল নিলামে দল পেলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।