নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৩নং বাগাতিপাড়া ইউনিয়নের বড় পুকুরিয়া গ্রামে একটি বিতর্কিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাধারণ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন জিডিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিবাদীপক্ষের পরিবারের একমাত্র চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পুরো পরিবার কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে মোঃ বাদশা মন্ডল বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর–১০২১) দায়ের করেন। উক্ত জিডিতে মোঃ বাবুল আলী (৫৫), বেলাল হোসেন (৫০), মোছাঃ শরিফা বেগম ও মোছাঃ বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ আনা হয়।
তবে অভিযুক্ত বিবাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, উক্ত জিডি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। বিবাদীপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান ছিল এবং বাদীপক্ষ নিজেই পূর্বে বলেছিলেন—যদি জমি নিজেদের হয়, তাহলে দখল বুঝে নিতে। সেই কথার ভিত্তিতে জমির সীমানায় থাকা কয়েকটি ছোট ও অপ্রধান গাছ পরিষ্কার করা হয়, যা কোনোভাবেই জোরপূর্বক বা ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ছিল না। বাদীপক্ষ আপত্তি জানানো মাত্রই সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরপরই বাদীপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার পথে না নিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং বিবাদীপক্ষের বাড়ির সামনে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বেআইনিভাবে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এর ফলে বর্তমানে বিবাদীপক্ষের পরিবারের নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যরা চরম মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও তারা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এটি কোনো সাধারণ পারিবারিক বিরোধ নয়—বরং সংবিধান স্বীকৃত চলাচলের অধিকার, নিরাপদে বসবাসের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগী বিবাদীপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সহায়তা পেতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো কার্যকর সমাধান বা তাৎক্ষণিক সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছে। এতে তারা নিজেদের সম্পূর্ণ অসহায় ও নিরাপত্তাহীন মনে করছেন।
এ বিষয়ে ৩ নং বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফাইমা খাতুন বলেন, “আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। কারও বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। এতে নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তা খুলে দেওয়া এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
সচেতন মহলের মতে, কারও বাড়ির রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যা দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। প্রশাসনের বিলম্ব ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এই বেআইনি কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ভুক্তভোগী বিবাদীপক্ষ ও এলাকাবাসীর এখন প্রশ্ন—
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও যদি কোনো প্রতিকার না মেলে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
প্রকাশ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া কি প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয় নয়?
বিবাদীপক্ষ ও স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে জোরালো ও তাৎক্ষণিক দাবি জানিয়েছেন—
অবিলম্বে ঘটনাস্থলে প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা,
বেআইনিভাবে অবরুদ্ধ বাড়ির রাস্তা দ্রুত খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যারা রাস্তা অবরোধ করে পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর জিডির মাধ্যমে হয়রানি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা—দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
নিউজ রুমঃ News.dainikparibarton@gmail.com অথবা News@dainikparibarton.com
মোবাইল: +8809696195106 অথবা +8801715-395106
All rights reserved © 2020-2025 dainikparibarton.com