শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ডোমরাকান্দি নুরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের গোপন পাসওয়ার্ড চুরি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব এবং অবৈধভাবে জনবল নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া ও গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এবং কাশিয়ানী থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর মাদ্রাসায় জনবল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. ওবায়দুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক এস এম জাহিদুল আলমসহ আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি যোগসাজশে মাদ্রাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের গোপন পাসওয়ার্ড চুরি করেন। এরপর তারা ওয়েবসাইট থেকে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত রেজাল্ট শিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও জরুরি নথিপত্র মুছে ফেলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে মাদ্রাসার রেজুলেশন তৈরি করেন এবং অবৈধভাবে নিয়োগপত্র ইস্যু করেন। পরবর্তীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ডিজি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোনো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অনলাইনের মাধ্যমে কয়েকটি নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক মো. ওবায়দুর রহমানের ছেলে মো. মুজাহিদকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী শিক্ষক এস এম জাহিদুল আলমের ছেলে রিয়ান মোল্যাকে গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী এবং পিঙ্গলিয়া সিদ্দিকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের ভাগ্নে মো. মোফাচ্ছলকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, বর্তমানে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত মূল রেজুলেশনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হারিয়ে যাওয়া নথিপত্র উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে এলাকাবাসী অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,
“এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় নেব।”
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।